রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা-বোনেরা রাস্তায় যখন নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে: ডা. শফিকুর রহমান

  • তাজরুল ইসলাম
  • আপডেট সময়: ০৩:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬০

0-0x0-0-0#

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের লংমার্চ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর খায়েশ পূরণের জন্য নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের কর্মসূচি। মা-বোনেরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চৌমাথা মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হতো এবং কৃষকরা ঠিকমতো সার পেতেন, তাহলে আমাদের লংমার্চ করতে হতো না।’

তিনি আরো বলেন, জনগণ আর জুলুম সহ্য করতে পারছে না। ৮ দফা দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে ৮ দফা ৯ দফা, ১০ দফা কিংবা এক দফায় রূপ নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঢাকায় লংমার্চে অংশ নেওয়ার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মা-বোন ও শিশু সন্তান রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের অভিবাদন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। মা-বোনেরা রাস্তায় যখন নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।

পথসভায় লংমার্চের ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এমপি।

এতে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ সুন্দরভাবে পরিচালিত হলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারত। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকত না, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। তিনি দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের মুক্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, জনগণ তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভোটে রেকর্ড পরিমাণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের গাদ্দারি করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ‘ছলচাতুরি করে’কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন করেছে বলে তার অভিযোগ। পাশাপাশি শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্যদের মধ্য বক্তব্য দেন- জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরোয়ার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ হাসনাত এমপি, এবি পাটির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, শ্রমিক ফেডাশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাড. আতিকুর রহমান, জাগপার সভাপতি, শফিউল আলম প্রধান বাংলাদেশ লেবার পাটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাবির ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি আব্দুল হালিমসহ জোটের স্থানীয় নেতারা।

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

লংমার্চের রুটের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানান। পরে বহরটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে লংমার্চের বহরের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

Popular Post

গাইবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পুলিশের উপপরিদর্শক নিহত

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

মা-বোনেরা রাস্তায় যখন নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময়: ০৩:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের লংমার্চ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর খায়েশ পূরণের জন্য নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের কর্মসূচি। মা-বোনেরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চৌমাথা মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হতো এবং কৃষকরা ঠিকমতো সার পেতেন, তাহলে আমাদের লংমার্চ করতে হতো না।’

তিনি আরো বলেন, জনগণ আর জুলুম সহ্য করতে পারছে না। ৮ দফা দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে ৮ দফা ৯ দফা, ১০ দফা কিংবা এক দফায় রূপ নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঢাকায় লংমার্চে অংশ নেওয়ার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মা-বোন ও শিশু সন্তান রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের অভিবাদন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। মা-বোনেরা রাস্তায় যখন নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।

পথসভায় লংমার্চের ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এমপি।

এতে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ সুন্দরভাবে পরিচালিত হলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারত। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকত না, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। তিনি দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের মুক্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, জনগণ তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভোটে রেকর্ড পরিমাণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের গাদ্দারি করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ‘ছলচাতুরি করে’কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন করেছে বলে তার অভিযোগ। পাশাপাশি শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্যদের মধ্য বক্তব্য দেন- জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরোয়ার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ হাসনাত এমপি, এবি পাটির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, শ্রমিক ফেডাশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাড. আতিকুর রহমান, জাগপার সভাপতি, শফিউল আলম প্রধান বাংলাদেশ লেবার পাটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাবির ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি আব্দুল হালিমসহ জোটের স্থানীয় নেতারা।

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

লংমার্চের রুটের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানান। পরে বহরটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে লংমার্চের বহরের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।