সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআন শিক্ষায় গাইবান্ধার হিজড়া সম্প্রদায়, বদলে যাচ্ছে জীবনের পথ

  • তাজরুল ইসলাম
  • আপডেট সময়: ০৭:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১৫

সমাজের নানা বাধা ও অবহেলাকে পেছনে ফেলে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত, আরবি বর্ণমালা ও ইসলামি আদব-কায়দা শিখছেন তারা। ঢাকার কেরানীগঞ্জের মওলানা আব্দুর রহমান আজাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় আলেম সমাজের উদ্যোগে বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে এ শিক্ষা কার্যক্রম।

গাইবান্ধা শহরের ডেভিট কোম্পাড়া এলাকার হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দেখা যায়, কেউ কায়দা, কেউ আমপারা আবার কেউ কোরআন শরীফ পড়ছেন। কেউবা খাতায় লিখছেন আরবি বর্ণমালা। শিক্ষকের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা নিচ্ছেন তারা। কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি তাদের শেখানো হচ্ছে আরবি ভাষা ও ইসলামি আদব-কায়দা।

হিজড়া শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিলেন তারা। এখন নিয়মিত কোরআন ও আরবি শেখার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। কোরআনের অক্ষর চেনা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা করছেন তারা।

একজন হিজড়া শিক্ষার্থী জেসমিন বলেন, আগে তারা কোরআন পড়তে পারতেন না। এখন ধীরে ধীরে আরবি বর্ণমালা ও কোরআন তেলাওয়াত শিখছেন। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাওয়ায় তারা আনন্দিত। পাশাপাশি সমাজের মানুষকে তাদের অবহেলা না করে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরু মাতা মৌ রানী বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের আরও মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। কোরআন শিক্ষা তাদের নৈতিকতা ও আত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষক সুলতান আহম্মেদ বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের অধিকার সবার রয়েছে। তারা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে কোরআন ও আরবি শিখছে। তাদের এই আগ্রহ অবশ্যই প্রশংসনীয়।”

গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের খতিব ও জেলা ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়। যে কেউ ইসলাম সম্পর্কে জানতে এবং কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা, শালীনতা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা বাড়াতে পারে। হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এটি সমাজে পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Popular Post

মায়ের ওপর অভিমান, গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: ময়নাতদন্তে মিলবে মৃত্যুর কারণ

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

কোরআন শিক্ষায় গাইবান্ধার হিজড়া সম্প্রদায়, বদলে যাচ্ছে জীবনের পথ

আপডেট সময়: ০৭:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমাজের নানা বাধা ও অবহেলাকে পেছনে ফেলে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত, আরবি বর্ণমালা ও ইসলামি আদব-কায়দা শিখছেন তারা। ঢাকার কেরানীগঞ্জের মওলানা আব্দুর রহমান আজাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় আলেম সমাজের উদ্যোগে বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে এ শিক্ষা কার্যক্রম।

গাইবান্ধা শহরের ডেভিট কোম্পাড়া এলাকার হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দেখা যায়, কেউ কায়দা, কেউ আমপারা আবার কেউ কোরআন শরীফ পড়ছেন। কেউবা খাতায় লিখছেন আরবি বর্ণমালা। শিক্ষকের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা নিচ্ছেন তারা। কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি তাদের শেখানো হচ্ছে আরবি ভাষা ও ইসলামি আদব-কায়দা।

হিজড়া শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিলেন তারা। এখন নিয়মিত কোরআন ও আরবি শেখার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। কোরআনের অক্ষর চেনা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা করছেন তারা।

একজন হিজড়া শিক্ষার্থী জেসমিন বলেন, আগে তারা কোরআন পড়তে পারতেন না। এখন ধীরে ধীরে আরবি বর্ণমালা ও কোরআন তেলাওয়াত শিখছেন। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাওয়ায় তারা আনন্দিত। পাশাপাশি সমাজের মানুষকে তাদের অবহেলা না করে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরু মাতা মৌ রানী বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের আরও মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। কোরআন শিক্ষা তাদের নৈতিকতা ও আত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষক সুলতান আহম্মেদ বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের অধিকার সবার রয়েছে। তারা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে কোরআন ও আরবি শিখছে। তাদের এই আগ্রহ অবশ্যই প্রশংসনীয়।”

গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের খতিব ও জেলা ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়। যে কেউ ইসলাম সম্পর্কে জানতে এবং কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা, শালীনতা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা বাড়াতে পারে। হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এটি সমাজে পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।