বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন না থাকায় বর্তমানে একদিন এক বাড়িতে, পরদিন অন্য বাড়িতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান।এ চিত্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাওয়া ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অন্যের বাড়িতে পাঠদান করছে। সংকীর্ণ ঘরটিতে পাঠদান করাতে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়েরই কষ্ট হচ্ছে, স্পষ্ট তা বোঝা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন বাড়িতে অস্থায়ীভাবে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে এভাবে নিয়মিত পাঠদান করা কঠিন। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিন্নাফি আক্তার বলেন,
‘অন্যের বাড়িতে আমাদের পড়তে ভালো লাগেনা। আমাদের স্কুলটি অনেক সাজানো গোছানো ছিল। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুতই আমাদের নতুন স্কুল করে দেওয়া হোক।’
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুজন মিয়া জানান, আমাদের স্কুলটি নদীতে ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের কখনো এক বাড়িতে, আবার কখনো অন্য বাড়িতে ক্লাস করতে হয়। অন্যের বাড়িতে পড়তে আমাদের ভালো লাগেনা।’ এতে পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীর অভিভাবক জমিলা বেগম বলেন, “বাড়ি বাড়ি ক্লাস হওয়ায় সন্তানদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।”

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান মন্ডল বলেন, “বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বলেছি। তারা সে কথার গুরুত্ব দেয়নি। অবশেষে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেল। এখন বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বাড়িতে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত একটি স্থায়ী জায়গায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিদ্যালয়টির জন্য নতুন করে জায়গার সন্ধান করা হচ্ছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা একটি সরকারি খাস জমির সন্ধান পেয়েছেন। আমাকে রিপোর্টও করেছেন। দ্রুতই স্কুলের কাজ শুরু করা হবে।’
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার জানান, ‘বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার পর পাশের একটি পুকুর ভরাট করে বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পুকুরটিও নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। বর্তমানে সরকারি খাস জায়গার উপর বিদ্যালয়টি নির্মাণের উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
তাজরুল ইসলাম 















