বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণে জেলা সেমিনার

গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণ বিষয়ক জেলা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ নাঈম কামরানের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন, ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ প্রজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার একরামুল হক, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর ইউনুস আলীসহ জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা।

সেমিনারে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, নদীবেষ্টিত ও দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক সময় সরকারি সেবা গ্রহণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। যাতায়াতব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, নদীভাঙন, বন্যা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে অনেক মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

সেমিনারে চরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের মতো সমানভাবে সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

Popular Post

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণে জেলা সেমিনার

আপডেট সময়: ০২:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণ বিষয়ক জেলা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ নাঈম কামরানের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন, ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ প্রজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার একরামুল হক, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর ইউনুস আলীসহ জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা।

সেমিনারে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, নদীবেষ্টিত ও দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক সময় সরকারি সেবা গ্রহণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। যাতায়াতব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, নদীভাঙন, বন্যা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে অনেক মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

সেমিনারে চরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের মতো সমানভাবে সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।