মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেশার টাকার জন্য কন্যা শিশু বিক্রি,বাবাসহ গ্রেফতার চার

 

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য নিজের কন্যা শিশুকে বিক্রির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। তেরো মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধারের পর আজ সোমবার (২১সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে এক প্রেসকনফারেন্সে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া থেকে তেরোমাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়। মদনেরপাড়ার মোর্শেদা খাতুনের সহযোগীতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে তার বাবা হামিদুল ইসলাম। এঘটনায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে হামিদুল ইসলাম , মজিদ সরকার, মোর্শেদা ও জেসমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, প্রায় দুইমাস আগে গাইবান্ধা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার নানার বাড়ি থেকে দুধ কিনে দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যায় তার বাবা হামিদুল ইসলাম। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর হামিদুল মোবাইল ফোনে তাকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়া হবে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ওই টাকা দিতে পারেননি। এরপর থেকে শিশুটিকে ফিরে পাননি। তিনি আরও জানান, হামিদুল পরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়ায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ্য হন। এবিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে পুলিশ।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো জসিম উদ্দিন বলেন,পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টীম কাজ শুরু করে।আসামিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কারণ কিছু বেগ পেতে হলেও আমাদের টীম চৌকস ভাবে তাদের গ্রেফতার করে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আসামীদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব  শরীফ আল রাজিব, পিপিএম-সেবা, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি নাজমুল হক, ডিবি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যসংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকরা।

Popular Post

নেশার টাকার জন্য কন্যা শিশু বিক্রি,বাবাসহ গ্রেফতার চার

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

নেশার টাকার জন্য কন্যা শিশু বিক্রি,বাবাসহ গ্রেফতার চার

আপডেট সময়: ০১:১৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য নিজের কন্যা শিশুকে বিক্রির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। তেরো মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধারের পর আজ সোমবার (২১সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে এক প্রেসকনফারেন্সে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া থেকে তেরোমাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়। মদনেরপাড়ার মোর্শেদা খাতুনের সহযোগীতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে তার বাবা হামিদুল ইসলাম। এঘটনায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে হামিদুল ইসলাম , মজিদ সরকার, মোর্শেদা ও জেসমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, প্রায় দুইমাস আগে গাইবান্ধা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার নানার বাড়ি থেকে দুধ কিনে দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যায় তার বাবা হামিদুল ইসলাম। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর হামিদুল মোবাইল ফোনে তাকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়া হবে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ওই টাকা দিতে পারেননি। এরপর থেকে শিশুটিকে ফিরে পাননি। তিনি আরও জানান, হামিদুল পরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়ায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ্য হন। এবিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে পুলিশ।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো জসিম উদ্দিন বলেন,পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টীম কাজ শুরু করে।আসামিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কারণ কিছু বেগ পেতে হলেও আমাদের টীম চৌকস ভাবে তাদের গ্রেফতার করে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আসামীদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব  শরীফ আল রাজিব, পিপিএম-সেবা, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি নাজমুল হক, ডিবি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যসংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকরা।