মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও করেন তাঁরা।

এছাড়াও বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা  নেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহেদ বাবলু অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ও মেয়েকে বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।

আব্দুল ওয়াহেদ বাবলু বলেন, আমার ছেলে ও মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার সময় চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও আমার ছেলে-মেয়েকে চাকরি দেওয়া হয়নি। পরে চাকরি দিতে না পারায় আমি আমার টাকা ফেরত চাই। কিন্তু টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই। চাকরি দেওয়ার কথা বলে কেন আমার কাছ থেকে এত টাকা নেওয়া হলো, সেটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। আমি চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং আমার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তাঁরা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের কাছ থেকে তিনি একটি টাকা নেননি।

বেলুছুর রহমানের দাবি, আব্দুল ওয়াহেদ বাবলুর ছেলে-মেয়েকে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানান তিনি।

 

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, সদর উপজেলার উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে গিয়ে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Popular Post

গাইবান্ধায় শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

গাইবান্ধায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময়: ১০:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও করেন তাঁরা।

এছাড়াও বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা  নেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহেদ বাবলু অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ও মেয়েকে বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।

আব্দুল ওয়াহেদ বাবলু বলেন, আমার ছেলে ও মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার সময় চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও আমার ছেলে-মেয়েকে চাকরি দেওয়া হয়নি। পরে চাকরি দিতে না পারায় আমি আমার টাকা ফেরত চাই। কিন্তু টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই। চাকরি দেওয়ার কথা বলে কেন আমার কাছ থেকে এত টাকা নেওয়া হলো, সেটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। আমি চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং আমার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তাঁরা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের কাছ থেকে তিনি একটি টাকা নেননি।

বেলুছুর রহমানের দাবি, আব্দুল ওয়াহেদ বাবলুর ছেলে-মেয়েকে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানান তিনি।

 

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, সদর উপজেলার উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে গিয়ে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।