এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্তানের কণ্ঠ নকল করে বাবার কাছে থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গাইবান্ধায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৩ (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩) গাইবান্ধা।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোহেল মণ্ডল (২৭) এবং হেলাল ইসলাম (২২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট এবং নগদ ১৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১৩-এর মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এসআরবি জানায়, গত ২০ জুলাই দুপুরে নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মো. আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কলে জানানো হয়, তার ছোট ছেলে তামিম আল মাহী বন্ধুদের সঙ্গে মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। প্রতারকরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হুবহু তার ছেলের কণ্ঠে কথা বলে আমিনুল ইসলামের আস্থা অর্জন করে। এরপর ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে টাকা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী, তিনি দুই দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নগদে প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। পরে ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে পুরো বিষয়টি প্রতারণা বলে নিশ্চিত হন তিনি।
প্রতারণার শিকার হয়ে আমিনুল ইসলাম নিজেই ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেন এবং গত ২৫ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা করেন।
ঘটনার সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসআরবি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে প্রতারক চক্রকে শনাক্তে অভিযানে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সিপিসি-৩, এসআরবি-১৩-এর একটি অভিযানিক দল গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুজনকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। পরে আসামিদের সংশ্লিষ্ট নাটোর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

















