মাত্র ২৭ বছর বয়সেই শারীরিক জটিলতায় স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই দূরে সাদুল্লাপুরের রহমত উল্লাহ শারাফাত। ছোটবেলায় পায়ে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তার শরীরে টিউমার ধরা পড়ে। অর্থের অভাবে সময়মতো অস্ত্রোপচার করাতে না পারায় ধীরে ধীরে টিউমারটি বড় হয়েছে। বর্তমানে এর কারণে হাঁটা-চলা ও দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাপনেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
রহমত উল্লাহ শারাফাত গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপগ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছোট ছেলে। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান তিনি। এরপর সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যান তার মা জরিনা বেওয়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রহমত উল্লাহর বয়স যখন পাঁচ থেকে ছয় বছর, তখন তার শরীরে টিউমার দেখা দেয়। শুরুতে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা উপকার মিললেও পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অর্থের অভাবে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় তার চিকিৎসা। সময়ের সঙ্গে টিউমারটি বড় হতে থাকে।
অভাব-অনটনের মধ্যেও ছেলে সুস্থ হবে—এই আশায় এক চিকিৎসকের কাছ থেকে আরেক চিকিৎসকের কাছে ছুটেছেন মা জরিনা বেওয়া। কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় বহন করতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতার প্রভাব পড়েছে রহমত উল্লাহর পড়াশোনা ও কর্মজীবনেও। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে।
রহমত উল্লাহ বলেন, “চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের জন্য কিছু করতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছি না।”
শুধু রহমত উল্লাহ নন, তার বড় ভাই আল আমিন ইসলামও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের দাবি, প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে বিরল একটি রোগে ভুগছেন তিনি। নিজের চিকিৎসা বন্ধ রেখেই বর্তমানে ঢাকার একটি টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে কাজ করছেন আল আমিন। দুই ভাইয়ের অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যয় ও সীমিত আয়—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে পরিবারটি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রহমত উল্লাহর উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তাদের জানানো হয়েছে। তবে ভিটেমাটি ছাড়া পরিবারের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। ফলে বিপুল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় রহমত উল্লাহর চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবারটি। তাদের আশা, সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এই তরুণ।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায় বলেন, “রহমত উল্লাহকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তার রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে থেমে আছে রহমত উল্লাহর চিকিৎসা। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন এখনো দেখেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে নতুন করে জীবন গড়ার পথ খুলতে পারে ২৭ বছর বয়সী এই তরুণের।
রিপোর্টারের নাম 



















