গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড ও টাইম স্কেল পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর একজন প্রভাবশালী সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে, যিনি নেপথ্যে থেকে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল পাওয়া শিক্ষকদের একটি ন্যায্য অধিকার। কিন্তু ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ফাইল জমা দেওয়ার পর তা অনুমোদন করাতে গেলেই শুরু হয় নানা জটিলতা। আর এই জটিলতার সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছেন অসাধু চক্র। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর বা কাজের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কঞ্চিপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মমিনুল হাউলিদার মোটা অংকের টাকা দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির কিছু নামধারী নেতা এবং ওই সহকারী শিক্ষক মমিনুল হাউলিদার এসব কাজের সাথে জড়িত। যেসব শিক্ষক টাকা দিতে রাজি হন না, তাদের ফাইল মাসের পর মাস দপ্তরে আটকে রাখা হয়। আবার কেউ টাকা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ফাইল নিষ্পত্তি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, একেকটি উচ্চতর গ্রেডের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলার কাইয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযোগকরী আরেক সহকারি শিক্ষক মোঃ আব্দুল করিম বলেন, আমার এবং ছাতারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোছা: সুমি বেগমের উচ্চতর গ্রেডের জন্য সহকারী শিক্ষক মমিনুল হাউলিদারকে অর্থ প্রদান করি। এ বিষয়ে মোছা: সুমি বেগম জানান, ওই দুই শিক্ষক কাগজপত্রসহ কিছু খরচের টাকা চায় আমার কাছে। সেইজন্য আমি কাগজপত্র ও দুই হাজার টাকা দেই। পরবর্তীতে আরও লাগবে বলে তারা জানায়। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মমিনুল হাউলিদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে টাকা নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু পরবতীতে উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল হুদা শিপুল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মোবাইলে ফোন করে অনুরোধের সুরে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোন নিউজ করার প্রয়োজন নেই। আমরা-আমরাই তো। তার পরেও দেখি আলাপ-আলোচনা করে কি করা যায়।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো:মাসুমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় ফুলছড়ির শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার সামিল বলে মনে করছেন। দ্রুত এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
রিপোর্টারের নাম 








