বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩১হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১১ মাসের শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাত উদ্ধার

গাইবান্ধায় নেশার টাকা না পেয়ে নিজের কোলের ১১ মাসের শিশুকন্যাকে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল এক মাদকাসক্ত বাবা। ওই টাকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দালাল চক্র ৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর বাবার হাতে এসেছিল মাত্র ৩১ হাজার টাকা। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিক্রীত শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার  সাহারবাজার এলাকার হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুরের  আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়ার মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই এলাকার মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারবাজার এলাকা থেকে প্রথমে শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর হামিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার শ্বশুরবাড়ি (২য় স্ত্রী)  থেকে ঘটনার সহযোগী ও বাসের হেলপার মজিদকে আটক করা হয়।

এরপর মজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় চক্রের আরেক সহযোগী মোরশেদাকে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ির মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকার সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রাত ১০টায় শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মা রুমানা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানান, শিশু বিক্রির খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও জড়িত চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে প্রথমে বাবা হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান, এরপর আর ফেরেননি। ঘটনার দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। ঘটনার পর হামিদুলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে রুমানা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরে আদালতেরও আশ্রয় নেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। পরে আদালত থেকে আসামি গ্রেফতার ও সন্তান উদ্ধারের জন্য সদর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলে ডিবি পুলিশের অভিযানে শিশুটি উদ্ধার করা হয়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমি ভীষণ খুশি।’

 

Popular Post

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

৩১হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১১ মাসের শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাত উদ্ধার

আপডেট সময়: ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় নেশার টাকা না পেয়ে নিজের কোলের ১১ মাসের শিশুকন্যাকে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল এক মাদকাসক্ত বাবা। ওই টাকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দালাল চক্র ৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর বাবার হাতে এসেছিল মাত্র ৩১ হাজার টাকা। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিক্রীত শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার  সাহারবাজার এলাকার হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুরের  আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়ার মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই এলাকার মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারবাজার এলাকা থেকে প্রথমে শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর হামিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার শ্বশুরবাড়ি (২য় স্ত্রী)  থেকে ঘটনার সহযোগী ও বাসের হেলপার মজিদকে আটক করা হয়।

এরপর মজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় চক্রের আরেক সহযোগী মোরশেদাকে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ির মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকার সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রাত ১০টায় শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মা রুমানা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানান, শিশু বিক্রির খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও জড়িত চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে প্রথমে বাবা হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান, এরপর আর ফেরেননি। ঘটনার দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। ঘটনার পর হামিদুলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে রুমানা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরে আদালতেরও আশ্রয় নেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। পরে আদালত থেকে আসামি গ্রেফতার ও সন্তান উদ্ধারের জন্য সদর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলে ডিবি পুলিশের অভিযানে শিশুটি উদ্ধার করা হয়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমি ভীষণ খুশি।’