সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের কি নাম দিব’ গান নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

0-0x0-0-0#

গাইবান্ধার প্রয়াত জনপ্রিয় লোকবাউল শিল্পী রাজা মিয়ার সৃষ্ট গান নিজের নামে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে বাউল শিল্পী শিমুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রাজা মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে গানটির স্বত্ব ও চুক্তি নিয়ে পাল্টা দাবি করেছেন শিমুল হাসান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে রাজা মিয়ার মেয়ে রোজিনা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের বাবা রাজা মিয়া ১৯৮০-এর দশকে অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গান রচনা করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েসহ সন্তানদের রেখে যান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রোজিনা বেগম বলেন, রাজা মিয়ার জনপ্রিয় গান ‘প্রেমের কি নাম দিব—’ দীর্ঘদিন ধরে শিমুল হাসান বাউল নিজের নামে প্রচার করে আসছেন। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও গান থেকে তার বাবার নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, গানটির প্রচার ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তারা ফোক বাংলা এন্টারটেইনমেন্টকে অনুমতি দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গানটির প্রচার ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রাজা মিয়ার নাম বাদ দিয়ে শিমুল হাসানের নামে গানটি প্রচার করা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে গানটির প্রচারে রাজা মিয়ার নাম যথাযথভাবে উল্লেখ, তার নাম বাদ দিয়ে প্রচার করা গান বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং শিমুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান পরিবারের সদস্যরা।

চুক্তি নিয়ে পাল্টা দাবি শিমুল হাসানের

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে বাউল শিল্পী শিমুল হাসান দাবি, ২০২০ সালে তাঁর কণ্ঠে গানটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে গাইবান্ধা কালচারাল অফিসের মাধ্যমে তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর রাজা মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে গানটি নিয়ে তাঁদের আর কোনো দাবি-দাওয়া নেই বলে জানানো হয়েছিল।


তিনি আরও দাবি করেন,রাজা পরিবারের পক্ষ থেকে গানটি একটি কোম্পানির কাছে দেওয়া হয়। তার চ্যানেলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। চুক্তিপত্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

Popular Post

প্রেমের কি নাম দিব’ গান নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

প্রেমের কি নাম দিব’ গান নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

আপডেট সময়: ০৬:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার প্রয়াত জনপ্রিয় লোকবাউল শিল্পী রাজা মিয়ার সৃষ্ট গান নিজের নামে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে বাউল শিল্পী শিমুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রাজা মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে গানটির স্বত্ব ও চুক্তি নিয়ে পাল্টা দাবি করেছেন শিমুল হাসান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে রাজা মিয়ার মেয়ে রোজিনা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের বাবা রাজা মিয়া ১৯৮০-এর দশকে অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গান রচনা করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েসহ সন্তানদের রেখে যান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রোজিনা বেগম বলেন, রাজা মিয়ার জনপ্রিয় গান ‘প্রেমের কি নাম দিব—’ দীর্ঘদিন ধরে শিমুল হাসান বাউল নিজের নামে প্রচার করে আসছেন। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও গান থেকে তার বাবার নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, গানটির প্রচার ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তারা ফোক বাংলা এন্টারটেইনমেন্টকে অনুমতি দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গানটির প্রচার ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রাজা মিয়ার নাম বাদ দিয়ে শিমুল হাসানের নামে গানটি প্রচার করা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে গানটির প্রচারে রাজা মিয়ার নাম যথাযথভাবে উল্লেখ, তার নাম বাদ দিয়ে প্রচার করা গান বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং শিমুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান পরিবারের সদস্যরা।

চুক্তি নিয়ে পাল্টা দাবি শিমুল হাসানের

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে বাউল শিল্পী শিমুল হাসান দাবি, ২০২০ সালে তাঁর কণ্ঠে গানটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে গাইবান্ধা কালচারাল অফিসের মাধ্যমে তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর রাজা মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে গানটি নিয়ে তাঁদের আর কোনো দাবি-দাওয়া নেই বলে জানানো হয়েছিল।


তিনি আরও দাবি করেন,রাজা পরিবারের পক্ষ থেকে গানটি একটি কোম্পানির কাছে দেওয়া হয়। তার চ্যানেলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। চুক্তিপত্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।