শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এদিকে জবাই করা ওই গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, অসুস্থ গরুটি জবাই করার পর মাংসে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রায় পাঁচ মণ ওজনের একটি অসুস্থ গাভী জবাই করেন। পরে ওই গরুর মাংস কাটতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা মাংসটি ১০০ ভাগে ভাগ করেন।

গরু জবাইয়ের চার দিন পর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া চারজনের শরীরে জ্বর দেখা দেয়। পরে তাদের পেট, হাত, পা ও আঙুলে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দেয়। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় আরও ৩১ জনের শরীরে। তারা পার্শ্ববর্তী তারাপুর ইউনিয়ন, রামজীবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০) গুরুতর অসুস্থ বলে জানা গেছে।

একসঙ্গে অনেকের অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা ওই গরুর অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেন স্থানীয়রা।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান ঘটনাস্থলে যান। তিনি আক্রান্তদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইসিডিডিআর, বি-তে পাঠানো নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিতে হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশা করা হচ্ছে, আক্রান্তরা চিকিৎসায় দ্রুত  সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহপালিত গরু অসুস্থ হলে তা জবাই না করে চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ। আর অসুস্থ গরু যদি মারা যায়, তবে দ্রুত মাটিতে পুতে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনভাবেই অসুস্থ গরু জবাই করা যাবেনা।’

 

Popular Post

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ

আপডেট সময়: ১১:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এদিকে জবাই করা ওই গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, অসুস্থ গরুটি জবাই করার পর মাংসে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রায় পাঁচ মণ ওজনের একটি অসুস্থ গাভী জবাই করেন। পরে ওই গরুর মাংস কাটতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা মাংসটি ১০০ ভাগে ভাগ করেন।

গরু জবাইয়ের চার দিন পর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া চারজনের শরীরে জ্বর দেখা দেয়। পরে তাদের পেট, হাত, পা ও আঙুলে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দেয়। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় আরও ৩১ জনের শরীরে। তারা পার্শ্ববর্তী তারাপুর ইউনিয়ন, রামজীবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০) গুরুতর অসুস্থ বলে জানা গেছে।

একসঙ্গে অনেকের অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা ওই গরুর অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেন স্থানীয়রা।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান ঘটনাস্থলে যান। তিনি আক্রান্তদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইসিডিডিআর, বি-তে পাঠানো নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিতে হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশা করা হচ্ছে, আক্রান্তরা চিকিৎসায় দ্রুত  সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহপালিত গরু অসুস্থ হলে তা জবাই না করে চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ। আর অসুস্থ গরু যদি মারা যায়, তবে দ্রুত মাটিতে পুতে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনভাবেই অসুস্থ গরু জবাই করা যাবেনা।’