সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের ওপর অভিমান, গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: ময়নাতদন্তে মিলবে মৃত্যুর কারণ

গাইবান্ধায় মায়ের কাছে মোবাইল ফোন চেয়ে না পেয়ে অভিমান করে সাদিয়া আকতার (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদিয়া ওই গ্রামের আব্দুল সালামের মেয়ে। সে স্থানীয় আহম্মদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের  অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় সাদিয়া তার মায়ের কাছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য চায়। তবে তার মা ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মা তাকে পড়তে বসতে বলেন। এর কিছু সময় পর সাদিয়া নিজ ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, ঘটনার পর ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে স্বজনেরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে সরে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খুশিত জাহানা মনিরা জানান, হাসপাতালে আনার পর সাদিয়াকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার গলায় চিহ্ন ছিল। এছাড়া চোখ ফুলে লাল হয়ে ছিল এবং মাথার একটি স্থানে ফোলা দেখা যায়। এসব চিহ্নের প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমঙ্গল কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

Popular Post

মায়ের ওপর অভিমান, গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: ময়নাতদন্তে মিলবে মৃত্যুর কারণ

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

মায়ের ওপর অভিমান, গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: ময়নাতদন্তে মিলবে মৃত্যুর কারণ

আপডেট সময়: ০৫:০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় মায়ের কাছে মোবাইল ফোন চেয়ে না পেয়ে অভিমান করে সাদিয়া আকতার (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদিয়া ওই গ্রামের আব্দুল সালামের মেয়ে। সে স্থানীয় আহম্মদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের  অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় সাদিয়া তার মায়ের কাছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য চায়। তবে তার মা ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মা তাকে পড়তে বসতে বলেন। এর কিছু সময় পর সাদিয়া নিজ ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, ঘটনার পর ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে স্বজনেরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে সরে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খুশিত জাহানা মনিরা জানান, হাসপাতালে আনার পর সাদিয়াকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার গলায় চিহ্ন ছিল। এছাড়া চোখ ফুলে লাল হয়ে ছিল এবং মাথার একটি স্থানে ফোলা দেখা যায়। এসব চিহ্নের প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমঙ্গল কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।