গাইবান্ধায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গাইবান্ধা সদর থানাধীন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজপাড়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ ও গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এসব মাদক ও টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সাথী বেগম (৩১) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় তার স্বামী ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী প্লাবন মিয়া (৪০) পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার জেলার সদর ও ফুলছড়ি থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশের দল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজপাড়া এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসায়ী প্লাবন মিয়ার বসতবাড়িতে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িতে থাকা মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়। এ সময় সাথী বেগমও কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের আরো জানান, স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্লাবন মিয়ার উত্তরমুখী শয়নকক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার বিছানার তোষকের নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো দুটি নীল রঙের জিপার ব্যাগে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
এ ছাড়া একটি সাদা প্লাস্টিকের কৌটার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো আরও ১০০ পিস ইয়াবা এবং একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের কৌটার ভেতর ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানকালে প্লাবন মিয়ার খাটের তোষকের নিচ থেকে মাদক বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন মূল্যমানের নোটে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও নগদ টাকা উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে উদ্ধার করা মাদক ও টাকা জব্দ করে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই দিন রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানার সামনে থেকে সাথী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সাথী বেগম গাইবান্ধা সদর থানার সবুজপাড়া এলাকার মোছা. মনির হোসেনের মেয়ে এবং প্লাবন মিয়ার স্ত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপর আসামি প্লাবন মিয়া একই এলাকার আলম মিয়ার ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক প্লাবন মিয়ার বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় মাদকসংক্রান্ত ১৫টি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, সাথী বেগম ও প্লাবন মিয়া পরস্পর যোগসাজশে মাদকদ্রব্য ইয়াবা বিভিন্ন মাদকসেবীর কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের বসতবাড়িতে সংরক্ষণ করেছিলেন।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬৩। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামি প্লাবন মিয়াকে গ্রেফতারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 












