গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ‘ইঁদুর-উইপোকা নষ্ট করল কৃষকের স্বপ্ন’এই শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন সৌদি প্রবাসী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমন।
গতকাল বুধবার বিকেলে দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারী গ্রামে প্রান্তিক কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের নিজ বাড়িতে এসে নগদ ২ লক্ষ টাকা সহায়তা দেন সৌদি প্রবাসী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান সুমনের পক্ষে তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনি।
জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রোববার সকালে জমি বন্ধক নেওয়ার জন্য টাকা বের করে দেখতে পান, টাকা ইঁদুর ও উইপোকা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। এই চিত্র দেখে দিনমজুর কৃষকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে এবং তিনি হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হলে তা সৌদি প্রবাসী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমনের নজরে পড়ে। দিন মজুর তোফাজ্জল হোসেন পরিবারের এমন কান্নায় বিচলিত হয়ে তাঁকে সহায়তার জন্য তার ছোট ভাইকে পাঠান ওই প্রবাসী।
এ বিষয়ে প্রবাসীর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনি জানান, তোফাজ্জল হোসেনের কষ্টের সঞ্চয়কৃত টাকা ইঁদুর ও উই পোকায় কেটে নষ্ট করার ঘটনা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি সৌদি প্রবাসী আমার বড় ভাইয়ের নজরে আসে। আমার বড় ভাই সৌদিতে ব্যবসা-বানিজ্য করেন। তিনি অসহায় ও দু:স্থ মানুষকে আর্থিক সহায়তা করে থাকেন। আমার বড় ভাইয়ের কথা মোতাবেক আমি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের
প্রান্তিক কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে আজ তার বাড়িতে আসি। আমার বড় ভাইয়ের পক্ষ থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীন তোফাজ্জল হোসেনের হাতে তুলে দিলাম।
এদিকে সহায়তা পেয়ে কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে ২ লক্ষ টাকা জমিয়েছিলাম। আমি ঢাকায় রিকশা চালিয়েছি এবং আমার স্ত্রী মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করে এই টাকা জমিয়েছি। বাড়িতে এসে টাকাগুলো বাক্সের ভেতরে রেখেছিলাম, কিন্তু ইঁদুর ও উইপোকা সেই টাকা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। টাকা নষ্ট হওয়ার পর শেষ বয়সে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় দিন কাটছিল। বিভিন্ন প্রচার হলে সৌদি প্রবাসী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমন ভাইয়ের নজরে আসে। পরে তাঁর ছোট ভাই এসে আমার হাতে ২ লক্ষ টাকা তুলে দেন। এই টাকা পেয়ে আমার সব চিন্তা দূর হয়েছে। টাকা পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছি। আল্লাহ তায়ালা মিজানুর রহমান ভাইকে নেক হায়াত দান করুক-এ দোয়া করি। এখন এই টাকা দিয়ে শেষ বয়সে কিছু করে জীবন চালাতে পারব।”
তাজরুল ইসলাম 









