মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পড়ে আছে বাবার মরদেহ, দাফনে বাঁধা মেয়ের

গাইবান্ধায় বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের দ্বন্দ্বের জেরে আটকে আছে বাবার দাফন। ঘটনাটি ঘটেছে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার নাজির উদ্দিন বেপারী মারা যান। আজ সকাল ১০টার দিকে দাফন হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী এলাকার লোকজন দাফনে উপস্থিত হন। এসময় বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেগম। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎মৃত নাজির উদ্দিন বেপারীর এক ছেলে ইদ্রিস আলী ও মেয়ে হালিমা বেগম। হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ফলে বাবার সম্পত্তিতে তিনি কোনো অংশ পাননি বলে দাবি করেন হালিমা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি  ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সেই   প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

‎হালিমা বেগমের দাবি, নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের টাকা নয়, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চান তিনি। সেই অধিকার বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে সম্মতি দেবেন না তিনি।

‎একদিকে পড়ে আছে বাবার মরদেহ, অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মেয়ের অনড় অবস্থান, এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সম্পত্তি কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে ছেলে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করা হলে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাটি চারিদিকে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

‎এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইফতেখর হাসান বলেন, ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে দুই ভাই বোনের মধ্যে সমঝোতা করে দিয়েছেন। লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

Popular Post

পড়ে আছে বাবার মরদেহ, দাফনে বাঁধা মেয়ের

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

পড়ে আছে বাবার মরদেহ, দাফনে বাঁধা মেয়ের

আপডেট সময়: ০১:০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধায় বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের দ্বন্দ্বের জেরে আটকে আছে বাবার দাফন। ঘটনাটি ঘটেছে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার নাজির উদ্দিন বেপারী মারা যান। আজ সকাল ১০টার দিকে দাফন হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী এলাকার লোকজন দাফনে উপস্থিত হন। এসময় বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেগম। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎মৃত নাজির উদ্দিন বেপারীর এক ছেলে ইদ্রিস আলী ও মেয়ে হালিমা বেগম। হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ফলে বাবার সম্পত্তিতে তিনি কোনো অংশ পাননি বলে দাবি করেন হালিমা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি  ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সেই   প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

‎হালিমা বেগমের দাবি, নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের টাকা নয়, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চান তিনি। সেই অধিকার বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে সম্মতি দেবেন না তিনি।

‎একদিকে পড়ে আছে বাবার মরদেহ, অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মেয়ের অনড় অবস্থান, এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সম্পত্তি কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে ছেলে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করা হলে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাটি চারিদিকে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

‎এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইফতেখর হাসান বলেন, ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে দুই ভাই বোনের মধ্যে সমঝোতা করে দিয়েছেন। লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।