সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালককে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৩

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাসান আলী ডাক্তারকে (৬৯) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। গতকাল শনিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত হাসান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ীর মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে এবং দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

আজ(১ নভেম্বর) শনিবার বিকেল পনে চারটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসআরবি-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

​​মামলার এজাহারের বরাদ দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ৮ বছর আগে ভুক্তভোগী কিশোরীকে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওই মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়। এরপর তার বাবা-মা কর্মের তাগিদে ঢাকায় চলে যান এবং প্রতি মাসে ঢাকা থেকে এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করে মাদ্রাসার খরচ দিয়ে যেতেন।

​অভিযুক্ত পরিচালক হাসান আলী গত প্রায় ৬ মাস ধরে ওই কিশোরীকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিশোরী বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা পরিচালককে ফোন করেন। তখন পরিচালক মৌখিকভাবে ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

​কিন্তু গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টার দিকে পরিচালক ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন হাসান আলী। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে কৌশলে মোবাইল ফোনে ঢাকায় থাকা বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী। গত ৩১ আগস্ট তারা গাইবান্ধায় এসে মেয়ের মুখে পুরো ঘটনা শুনে গত ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা (নম্বর-২২) দায়ের করেন।

​মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। আসামি গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় আজ(১ নভেম্বর) রোববার ভোর রাত্রী সাড়ে বারো টার দিকে এসআরবি-১৩, সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা ক্যাম্পের) একটি আভিযানিক দল পলাশবাড়ী থানাধীন ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের শ্যামলী ট্রাভেলস বাস কাউন্টারের সামনে থেকে ধর্ষন মামলার প্রধান আসামি হাসান আলীকে গ্রেফতার করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়,গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা অটোভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

গাইবান্ধায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালককে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৩

আপডেট সময়: ০১:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাসান আলী ডাক্তারকে (৬৯) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। গতকাল শনিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত হাসান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ীর মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে এবং দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

আজ(১ নভেম্বর) শনিবার বিকেল পনে চারটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসআরবি-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

​​মামলার এজাহারের বরাদ দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ৮ বছর আগে ভুক্তভোগী কিশোরীকে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওই মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়। এরপর তার বাবা-মা কর্মের তাগিদে ঢাকায় চলে যান এবং প্রতি মাসে ঢাকা থেকে এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করে মাদ্রাসার খরচ দিয়ে যেতেন।

​অভিযুক্ত পরিচালক হাসান আলী গত প্রায় ৬ মাস ধরে ওই কিশোরীকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিশোরী বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা পরিচালককে ফোন করেন। তখন পরিচালক মৌখিকভাবে ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

​কিন্তু গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টার দিকে পরিচালক ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন হাসান আলী। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে কৌশলে মোবাইল ফোনে ঢাকায় থাকা বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী। গত ৩১ আগস্ট তারা গাইবান্ধায় এসে মেয়ের মুখে পুরো ঘটনা শুনে গত ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা (নম্বর-২২) দায়ের করেন।

​মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। আসামি গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় আজ(১ নভেম্বর) রোববার ভোর রাত্রী সাড়ে বারো টার দিকে এসআরবি-১৩, সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা ক্যাম্পের) একটি আভিযানিক দল পলাশবাড়ী থানাধীন ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের শ্যামলী ট্রাভেলস বাস কাউন্টারের সামনে থেকে ধর্ষন মামলার প্রধান আসামি হাসান আলীকে গ্রেফতার করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়,গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।