বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, চোখেমুখে স্পষ্ট বয়সের ছাপ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেখানে একটু শান্তি, স্বস্তি আর নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কথা, সেখানে ৭০ বছর বয়সেও অভাব-অনটন আর নানা দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন গাইবান্ধার ত্রিমোহনী আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত অসহায় বৃদ্ধা রহিমা বেগম। দীর্ঘ জীবনের পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি যেন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। নেই স্বামী, নেই ছেলে-মেয়ে। জীবনের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতোও কেউ নেই তাঁর।
বৃদ্ধ বয়সে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পরিবারের ভালোবাসা, একটু যত্ন এবং আর্থিক নিরাপত্তা। কিন্তু রহিমা বেগমের জীবনে এসব যেন অধরাই রয়ে গেছে। বয়সের কারণে আগের মতো কাজ করার সামর্থ্য নেই। শরীরও সায় দেয় না সব সময়। তারপরও বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিনই তাঁকে লড়তে হচ্ছে প্রতিকূলতার সঙ্গে।
জীবন চালাতে বাধ্য হয়ে পথের ধারে বসে মানুষের কাছে হাত পাতেন তিনি। দিন শেষে ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তাঁর জীবন। কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্ব নিয়েই কাটছে তাঁর প্রতিটি দিন।
নিজের জীবনের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রহিমা বেগম। তিনি বলেন, “আমার স্বামী নেই, ছেলে-মেয়েও নেই। এই পৃথিবীতে আমার আপন বলতে কেউ নেই। বয়স হয়েছে, শরীরে আগের মতো শক্তি পাই না। তারপরও পেটের দায়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। মানুষ যা দেয়, তা দিয়েই কোনো রকমে দিন পার করি। অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও জোটে না। আমার আর বেশি কিছু চাওয়ার নেই, শেষ বয়সে যেন দুবেলা দুমুঠো খেয়ে একটু শান্তিতে বাঁচতে পারি। কেউ যদি আমার পাশে দাঁড়াতেন, তাহলে অনেক উপকার হতো।”
জীবনের শেষ বয়সে এসে রহিমা বেগমের চাওয়া-পাওয়াও খুব বেশি নয়। তাঁর প্রয়োজন দুবেলা দুমুঠো খাবার, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং একটু মানবিক সহায়তা। অথচ আপনজনহীন এই জীবনে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতেই তাঁকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
রহিমা বেগমের এই অসহায় জীবনের গল্প শুধু একজন বৃদ্ধার কষ্টের গল্প নয়, বরং সমাজের মানবিক দায়িত্ববোধেরও এক কঠিন প্রশ্ন। একজন মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন এমন অসহায় জীবন কাটাবেন? কেন তাঁকে এই বয়সেও মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হবে?
এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে রহিমা বেগমের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনে এই অসহায় বৃদ্ধার জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে।
একসময় জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তিনি দাঁড়িয়েছেন অসহায়ত্বের শেষ প্রান্তে। এখন তাঁর অপেক্ষা কেউ একজন মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, জীবনের শেষ সময়টুকু যেন একটু শান্তিতে কাটাতে পারেন রহিমা বেগম।
রিপোর্টারের নাম 













