গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মসজিদ ,মাদ্রাসা,কবরস্থান,মন্দির ,শ্বশান ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি এতিমদের নামেও সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে| মুজিব শতবর্ষে দেড় কোটি টাকা মুল্যের দু:স্থ্যদের অটোভ্যান গায়েব করে দেয়া হয়েছে|
অভিযোগে জানাযায় ,২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ফ্যাসিস্ট শ্বাশনামলের শেষের দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান মেম্বার জুলাই আন্দোলনের সময় ঘরবাড়ি রেখে পালিয়ে যান| কেউ আবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কারাগারে যান| এই সুযোগে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম অন্যদের ম্যানেজ করে নামে বেনামে লোক দেখানো প্রকল্প তৈরী করেন| তবে প্রকল্পের কাজ ৩০ শে জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি| জুন ফাইনাল দেখিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম এসব প্রকল্পের নামে বরাদ্দ টাকাও উত্তোলন করেন| কাজ না করে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিপুল পরিমান টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হলে তিনি নতুন করে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের বৈঠক করেন| তাদের কাছে অর্ধেক তোর অর্ধেক মোর- পদ্ধতিতে মন্দির ,মাদ্রাসা ,মসজিদ ,এতিম খানা ,কবরস্থান, রাস্তা ,প্যারাসাইটিং ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সংস্কার ও নির্মান দেখিয়ে শতাধিক প্রকল্পের নামে বেনামে ভুয়া ভাউচার দিয়ে ১২ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭১ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে| কিন্তু বাস্তব চিত্র আলাদা | প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হলেও কামারজানি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমানের নামে রাস্তা সংস্কার কাজ না করেই ১০ লাখ টাকা গায়েব করে দেন| আনালেরতারি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে রাস্তার পার্শে গাইড ওয়াল নির্মান দেখিয়ে ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেন| সে ক্ষেত্রে প্রকল্পের চেয়ারম্যানে নাম ও ঠিকানাও দেয়া হয়নি| এই টাকা কোথায় গেছে এলাকার লোকজনও জানে না| বামনীপাড়া মাদারী কুড়া রাস্তায় প্যারাসাইটিং দেখিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ৩ লাখ টাকা ,খোলাহাটিতে কুঠিপাড়া মসজিদ সংস্কারের নামে দেড় লাখ টাকা গায়েব করে দেয়া হয়| তবে এসব ভুয়া প্রকল্পের অভিযোগ জানিয়েছেন খোলাহাটি ইউপি মেম্বার আহসান হাবীব | তিনি বলেন,পিআইও সাহেব কে টাকা না দিয়ে প্রকল্প কিনে নিতে হয়| আগে টাকা তারপর প্রকল্প | এব্যাপারে ওই মেম্বার নাকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচারও দিয়েছেন কিন্তু কিছু হয়নি| তিনি বলেন ,কুঠিপাড়া মসজিদ সংস্কারের নামে দেড় লাখ টাকাও গেলো পিআইওর পেটে | ব্রহ্মপুত্র নদীর দুর্গম চরের চিথুলিয়া দিগরে রাস্তা সংস্কারের জন্য নাজমা বেগম নামের এক মহিলা মে¤^ারের নামে ৫ লাখ টাকা,ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হারুনার রশিদ ইদু তার নাম গোপন করে ইদুরবাড়ির রাস্তা সংস্কার দেখিয়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ ইদু নিজেই প্রকল্প চেয়ারম্যান সেজে রাস্তা সংস্কারের ভুয়া ভাউচার দিয়ে ৯ লাখ টাকা কাজ ভাগবাটোয়ারা করেন পিআইও | একই ভাবে মালিবাড়ি ইউপির সাহেরা খাতুন ,সোয়েব মো: রাসেল,কুপতলার নজরুল ইসরাম ,নুরুল ইসলাম,মাসুদ মিয়া ,বল্লমঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকার রহমান ,বোয়ালী ইপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু,বাদিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সাফায়েতুল হক ,কামারজানির মহিলা নেত্রী মুন্নি বেগম,আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান সরকার,কুন্দেরপাড়ার নাজমা বেগম পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতা বলে তাদের নামে ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে ভাউচার দিয়ে পিআইওর সাথে ভাগবাটোয়া হয়েছে অন্তত সাড়ে ৭ কোটি টাকা | আর এসব টাকার কাজ না করেও অর্থ লুটপাটের খবর চাউর হলেও পিআইও চলেন উপরওয়ালাদের ম্যানেজ করে| তিনি কাউকে আমলে নেন না | কাজ না করে টাকা উত্তোলনের অনেক অভিযোগ মাঠ পর্যায়ে কিন্তু কোন উত্তর দিতে নারাজ পিআইও রিয়াজুল | এছাড়াও মুজিব শতবর্ষে নামে বেনামে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দামের ৫০ টি অটোভ্যান বিতরনের তালিকা রয়েছে| কিন্তু একজন অটোভ্যান চালককেও খুজে পাওয়া যায়নি|
এব্যাপারে অভিযুক্ত পিআইও রিয়াজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি|
তবে জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে|
বিশেষ প্রতিনিধি 








