শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছরেও হয়নি বিচার, গাইবান্ধায় সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত

তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং পৈতৃক জমি ফেরতের দাবিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় তীর-ধনুক, ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন সাঁওতালরা। পরে সেখান থেকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি সাহেবগঞ্জ-জয়পুর গ্রামে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গাইবান্ধা সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা খোকন সুইটেন মুরমু, আরতি ফালকো, সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ময়নুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের মার্টিন মুরমু, তিতাস মার্ডি ও ওমর ফারুক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত তিন সাঁওতালের হত্যাকাণ্ডের বিচার ১০ বছরেও শুরু হয়নি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের বিচার বিগত ও বর্তমান কোনো সরকারই নিশ্চিত করতে পারেনি।

বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতালদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাগদাফার্মের ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি পূর্বের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান তাঁরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সাহেবগঞ্জ এলাকার জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নামে তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।

পরে দফায় দফায় সাঁওতালরা চিনিকলের জমি দখলে নেন। এ পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) সেখানে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেপজা সাহেবগঞ্জ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় সাঁওতালরা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সেখানে ইপিজেড স্থাপনের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

 

Popular Post

১০ বছরেও হয়নি বিচার, গাইবান্ধায় সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত!!

১০ বছরেও হয়নি বিচার, গাইবান্ধায় সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত

আপডেট সময়: ০১:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং পৈতৃক জমি ফেরতের দাবিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় তীর-ধনুক, ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন সাঁওতালরা। পরে সেখান থেকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি সাহেবগঞ্জ-জয়পুর গ্রামে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গাইবান্ধা সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা খোকন সুইটেন মুরমু, আরতি ফালকো, সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ময়নুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের মার্টিন মুরমু, তিতাস মার্ডি ও ওমর ফারুক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত তিন সাঁওতালের হত্যাকাণ্ডের বিচার ১০ বছরেও শুরু হয়নি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের বিচার বিগত ও বর্তমান কোনো সরকারই নিশ্চিত করতে পারেনি।

বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতালদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাগদাফার্মের ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি পূর্বের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান তাঁরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সাহেবগঞ্জ এলাকার জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নামে তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।

পরে দফায় দফায় সাঁওতালরা চিনিকলের জমি দখলে নেন। এ পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) সেখানে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেপজা সাহেবগঞ্জ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় সাঁওতালরা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সেখানে ইপিজেড স্থাপনের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।