ইফতারে যেভাবে খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর

Date: 2023-03-30
news-banner

খালি পেটে তাড়াহুড়া করে খাওয়া ঠিক না।


সুস্থ থাকতে ইফতারে বেছে নিতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার, এটা সকলেই জানেন। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার যদি সঠিক উপায়ে খাওয়া না হয় তাহলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। 

ইফতারে খাবার খাওয়ার বিষয়ে ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স, আজিমপুর, ঢাকা’র খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা, বেশি তাড়াহুড়া করে না খাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, “একটু সময় নিয়ে ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া উচিত। শুরুতে দুতিনটি খেজুর খেয়ে পানি পান করে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে তুলনামূলক ভারি খাবার খাওয়া উচিত।”

এই বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “মস্তিষ্কে খাবারের সংবেদন পৌঁছাতে একটু সময় লাগে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাড়াহুড়া করে খাওয়া শুরু করলে অধিভোজের ঝুঁকি বাড়ে।” 

খেজুর মিষ্টি ফল। তাই দ্রুতই রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়াও এতে থাকা এনজাইম দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে। তাই খাবারের শুরুতে খেজুর খাওয়া পরিপাকের জন্য উপকারী।

ইফতারিতে যতটা সম্ভব পানিজাতীয় খাবার যেমন- ফলের রস, শরবত, সুপ ইত্যাদি খাওয়া উচিত। এর ফলে সারাদিনের পানির ঘাটতি হ্রাস পায়।

একবারে বেশি পানি পানের বিষয়ে সতর্ক করে ফারাহ মাসুদা বলেন, “একবারে বেশি পান করা কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়। তাছাড়া এর ফলে ঠিক মতো খাবার খাওয়া যায় না। তাই ইফতারের পর থেকে খানিকক্ষণ পর পর অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে।”

ইফতারে যেন সুষম খাবার থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব বেশি ভারী বা তেলধর্মী খাবার যেমন- ভাজাপোড়া, বিরিয়ানি, কাচ্চি, কষানো মাংস ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। এতে পেট গরম হওয়া, গ্যাস সৃষ্টি, হজমে গোলযোগ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খেজুর ও পানীয় গ্রহণের পরে ফল মূল, সবজি ধরনের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এগুলো দেহ থেকে ‘টক্সিন’ বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে।

ফারাহ মাসুদা বলেন, “ইফতারে পেট ঠাণ্ডা থাকে এমন খাবার যেমন- দুধচিড়া, দই-চিড়া বা মুড়ি খাওয়া ভালো। এতে থাকা শর্করা রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।”

এছাড়াও, প্রোটিন ধরনের ও অপেক্ষাকৃত ভারী খাবার সব শেষে খেতে হবে। ডিম, মুরগির মাংস, মাছ ইত্যাদি খাওয়া পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। ইফতারের মূল খাবার হিসেবে এসব খাবার রাখা যেতে পারে।

হালকা থেকে ক্রমশ ভারী খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে খাবার হজম সহজ হয়। 

ইফতারিতে অতিরিক্ত মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার, কোমল পানীয়, চা-কফি না খাওয়াই ভালো। এগুলো পানির স্বল্পতার সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে কিছুক্ষণ পর পর পানি ও ফলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন এই পুষ্টিবিদ।

Leave Your Comments