হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা

নিউজ ডেস্কনিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৫৮ PM, ০৭ জুন ২০২১

অবশেষে বহুল আলোচিত-সমালোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টায় খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলে থাকা ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে নতুন কমিটিতে।

কমিটিতে জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে।

সেখানে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মো. ইউসুফকে সহকারী মহাসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে।

ঘোষিত কমিটিতে নায়েবে আমির পদে রয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাও. আবদুল হক, মাও. সালাহউদ্দীন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মীযানুর রহমান চৌধুরী, মাও. মুহিব্বুল হক, মাও. ইয়াহইয়া, মাও. আব্দুল কুদ্দুস, মাও. তাজুল ইসলাম ও মাও. মুফতি জসিমুদ্দীন।

যুগ্ম মহাসচিব পদে থাকা ৫ জন হলেন- মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাও. আব্দুল আউয়াল, মাও. লােকমান হাকীম, মাও. আনােয়ারুল করীম ও মাও. আইয়ুব বাবুনগরী।

সহকারী মহাসচিব পদে রয়েছেন মাও. জহুরুল ইসলাম এবং ইউসুফ মাদানী।

সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মাও. মীর ইদ্রিস, অর্থ সম্পাদক মাও. মুফতি মুহাম্মদ আলী, সহ-অর্থসম্পাদক মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাও. মুহিউদ্দীন রব্বানী, সহ-প্রচার সম্পাদক মাও. জামাল উদ্দীন, দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক মাও. আবদুল কাইয়ুম সােবহানী, সহকারী দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক মাও. ওমর ফরুক।

কমিটির বাকি ৮ জন সদস্য হলেন মাও. মােবারাকুল্লাহ, মাও. ফয়জুল্লাহ, মাও. ফোরকানুল্লাহ খলিল, মাও. মােশতাক আহমদ, মাও. রশিদ আহমদ, মাও. আনাস, মাও. মাহমুদল হাসান, মাও. মাহমুদুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট। ৩৩ সদস্যর এ নতুন কমিটি অন্যান্যদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারবেন।

এছাড়া ভবিষ্যতে প্রত্যেক জেলা কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী অরাজনৈতিক ব্যক্তি হতে হবে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে প্রধান করে ১৬ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অসুস্থ থাকার কারণে এ সময় উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

হেফাজতের প্রয়াত আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান। এর পর নানান আলোচনার মধ্যে ১৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে বাবুনগরীকে আমির করে হেফাজতের ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। ১৫১ সদস্যের ওই কমিটিতে আহমদ শফীর অনুসারীরা কেউ জায়গা পাননি।

ওই কমিটিতে নূর হোসাইন কাসেমীকে মহাসচিব করা হয়। তবে তিনি গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মারা গেলে ২৬ ডিসেম্বর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

তবে নতুন কমিটি গঠনের ছয় মাস পার হওয়ার আগেই নরেন্দ্র মোদির সফরকেন্দ্রিক বিক্ষোভ থেকে সহিংসতার ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে চাপে থাকা হেফাজতের সেই কমিটি এ বছরের ২৫ এপ্রিল রাতে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সেদিন রাতে হেফাজতে ইসলামের ফেসবুক পেজে এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে কমিটি বিলুপ্তির কথা জানান জুনাইদ বাবুনগরী। সে ভিডিওতেই নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান বাবুনগরী।

সেদিন রাতেই কমিটি বিলুপ্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হেফাজতের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। দুই দফার বিজ্ঞপ্তিতে হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির উপদেষ্টা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীকে রাখা হয়। সেখানে আগের কমিটির সালাহ উদ্দিন নানুপুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে যুক্ত করে মোট পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।

আহ্বায়ক কমিটি ‘অতি দ্রুত’ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করবে বলেও সেদিনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তবে তা আর হয়নি। এ ঘটনার পর হেফাজতের শীর্ষ পর্যায়ের অর্ধ শতাধিক নেতা গ্রেফতার হন। বর্তমানে তাদের প্রায় সবাই কারাগারে রয়েছেন। এরপর কয়েক দফায় হেফাজত মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সেসব সাক্ষাতের পর সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সমঝোতা চেষ্টাসহ নানান ধরনের খবর প্রচারিত হয়। যদিও কোনো পক্ষ থেকেই এসব নিয়ে কোনো কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলো। এবারের কমিটিতে ফিরলেন শাহ আহমদ শফীর ছেলে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, ‘এখন যারা জেলে রয়েছে তারা কমিটিতে নেই। তবে তাদের বাদ রাখা হয়েছে এমন নয়। পরবর্তীতে তারা যুক্ত হতেও পারেন।’

কোনো ধরনের চাপে কমিটি বিলুপ্ত এবং তড়িঘড়ি করে নতুন কমিটি করা হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিটি গঠন বা আমাদের সংগঠনের ওপর কোনো চাপ নেই। ২৫ এপ্রিল সকলের সাথে পরামর্শ করে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী কমিটি বিলুপ্ত করেছিলেন। আর পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেন। কথা ছিল এ ৫ সদস্যের কমিটি নতুন কমিটি গঠন করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সকল সদস্য জেল থেকে মুক্তি পাক। এবং তাদের কোনো ধরনের নির্যাতন যেন না করা হয় সেজন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন :